রাত ৯:৩৯ | মঙ্গলবার | ১৭ই জুলাই, ২০১৮ ইং | ২রা শ্রাবণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

“সার্টিবেট”

“সার্টিবেট”
——–

–রিয়াজ মুস্তাফিজ
“মধুমতি পাড়ের লেখিয়ে”
_______________________

“সার্টিবেট দিয়ে কি অবি?
দ্যাশের জন্যি যুদ্ধে গেছিলাম
দরকার অলি আবার যাবো”

আমার বাবা মরহুম জয়েনউদ্দীন মোল্যা। ১৯৭১ এর একজন কিশোর যোদ্ধা। পশ্চিমা হায়েনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য বাড়ি ছেড়েছিলেন। সামান্য চিড়া, গুড় পুটলাতে বেধে রওয়ানা দেন। সাথে সমবয়সী আরো কয়েকজন কিশোর। তাদের মধ্যে জিন্না, সামচেল, ও পথের অপরিচিত আরো কয়েকজন। অঘোষিত একটি দল তৈরী হয়ে যায় এ সময়। এ দলের নেতৃত্বে ছিলেন আমার সে সময়ের কিশোর বাবা। কখনো পায়ে হেটে, কখনোবা নৌকায় করে এগোচ্ছিল মুক্তিকামীর এই ছোট্ট দল।

রাজাকারের ধাওয়া, মিলিটারির গুলি কোন কিছুতেই দমছে না কিশোরের দল। দিনে পাট ক্ষেতে বা কোন জংগলে আত্বগোপনে থাকতো, রাতে গোপনে গোপনে ভারতের পথে পা বাড়াতো তারা।
পাকিদের গুলি শুরু হলেই গোরস্থানের ভাঙ্গা কবরে মৃত লাশের মত পড়ে থাকতো এই কিশোর মুক্তিকামির দল।

এভাবেই তারা পৌছে যায় ভারতে। কল্যানী ট্রেনিং ক্যাম্পে প্রশিক্ষন শুরু হয় তাদের। অদম্য মনোবল ও দেশ স্বাধীনের বাসনা বুকে নিয়ে সফল ভাবে প্রশিক্ষন শেষ হয়ে যায়।

এখন হায়ার ট্রেনিং এর অপেক্ষা………..।

এসে যায় ডিসেম্বর। কল্যানী ক্যাম্পে থাকা অবস্থায়ই সুখবর শুনতে পায় কিশোর দলটি। তাদের ফিল্ডে গিয়ে যুদ্ধ করার আগেই শত্রু মুক্ত হয় বাংলা। নতুন সূর্য দেখতে ভারত থেকে সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে প্রবেশ করে তারা। নকশালের ভয়ে ছাড়পত্র ছিড়ে ফেলে সরনার্থী সেজে দেশে আসে কিশোর মুক্তিকামি এ দলটি।

……..মহান মুক্তিযুদ্ধের ৪৪ বছর পরে এসে দেখলাম। দলটির অনেক সদস্যই চলে গেছেন না ফেরার দেশে। তাঁদের কেউই পাননি মুক্তিযোদ্ধা সনদ, মৃতদেহে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা কিংবা কোন প্রকার সংবর্ধনা।

২০০৯ সালে আমার বাবাও চলে গেছেন পৃথিবী ছেড়ে। বাবার জীবদ্দসায় যখনি প্রশ্ন করতাম মুক্তিযুদ্ধ সনদ নিয়ে……………….

মৃদুহেসে বাবা একটাই উত্তর দিতেন—

সার্টিবেট দিয়ে কি অবি?………………………দরকার অলি আবার যাবো……

Comments

comments

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» রুর‌্যাল জার্নালিষ্ট ফাউন্ডেশন (আরজেএফ)’র আলফাডাঙ্গা শাখার দ্বিবার্ষিক কমিটি গঠন

» সমাহার সফট চালু করলো করপোরেট বাল্ক এসএমএস

» আরজেএফ কেন্দ্রীয় কমিটিতে আলফাডাঙ্গার কামরুল ইসলাম নির্বাচিত

» “মধুমতি পাড়ের লেখিয়ে গ্রুপ”

» Test

» জেনে নিন টনসিলের ব্যথা দূর করার সহজ সমাধান !!

» ডায়াবেটিস রোগীদের পায়ে ব্যথা কমানোর ঘরোয়া উপায় !!

» ৪ অবস্থায় আদা ভুলেও খাবেন না !!

» বিয়ের পর মোটা হওয়া কিভাবে আটকাবেন?

» সুখী দাম্পত্যজীবনের মন্ত্র

» লিভার নষ্ট হওয়ার এই ১০টি কারণ কি আপনার মধ্যে আছে? আজই সচেতন হউন !!

» যেভাবে রসুন খেলে ৩ গুণ বেড়ে যায় পুরুষের শারীরিক সক্ষমতা !!

» ভাঙা সম্পর্কের রেশ কাটাতে

» হঠাৎ অস্থিরতা ও খারাপ লাগা বড় কোনো রোগের লক্ষণ?

» নিজেকে সব সময় ক্লান্ত মনে হয়?

Archive Calendar

ডিসেম্বর ২০১৭
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« নভেম্বর   জানুয়ারি »
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  

সদস্য মণ্ডলী : –

উপদেষ্টা : ডা রফিকুল ইসলাম বিজলী
আইন উপদেষ্টা : এ্যড জামাল হোসেন মুন্না
সম্পাদক ও প্রকাশক : মাহির শাহরিয়ার শিশির
বার্তা সম্পাদক: সৈকত মাহমুদ
নির্বাহী সম্পাদক : মনেম শাহরিয়ার শাওন

যোগাযোগ : –

সম্পাদকীয় কার্যালয় : সুইট :৩০০৯, লেভেল : ০৩, হাজি
আসরাফ শপিং কমপ্লেক্স, হেমায়েতপুর, সাভার, ঢাকা
09602111463,09602333111,01611354077
fb.com/bartakantho | info@bartakantho.com

Design & Devaloped BY The Creation IT BD Limited | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © বার্তাকণ্ঠে প্রকাশিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র ও অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি।

রাত ৯:৩৯, ,

“সার্টিবেট”

“সার্টিবেট”
——–

–রিয়াজ মুস্তাফিজ
“মধুমতি পাড়ের লেখিয়ে”
_______________________

“সার্টিবেট দিয়ে কি অবি?
দ্যাশের জন্যি যুদ্ধে গেছিলাম
দরকার অলি আবার যাবো”

আমার বাবা মরহুম জয়েনউদ্দীন মোল্যা। ১৯৭১ এর একজন কিশোর যোদ্ধা। পশ্চিমা হায়েনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য বাড়ি ছেড়েছিলেন। সামান্য চিড়া, গুড় পুটলাতে বেধে রওয়ানা দেন। সাথে সমবয়সী আরো কয়েকজন কিশোর। তাদের মধ্যে জিন্না, সামচেল, ও পথের অপরিচিত আরো কয়েকজন। অঘোষিত একটি দল তৈরী হয়ে যায় এ সময়। এ দলের নেতৃত্বে ছিলেন আমার সে সময়ের কিশোর বাবা। কখনো পায়ে হেটে, কখনোবা নৌকায় করে এগোচ্ছিল মুক্তিকামীর এই ছোট্ট দল।

রাজাকারের ধাওয়া, মিলিটারির গুলি কোন কিছুতেই দমছে না কিশোরের দল। দিনে পাট ক্ষেতে বা কোন জংগলে আত্বগোপনে থাকতো, রাতে গোপনে গোপনে ভারতের পথে পা বাড়াতো তারা।
পাকিদের গুলি শুরু হলেই গোরস্থানের ভাঙ্গা কবরে মৃত লাশের মত পড়ে থাকতো এই কিশোর মুক্তিকামির দল।

এভাবেই তারা পৌছে যায় ভারতে। কল্যানী ট্রেনিং ক্যাম্পে প্রশিক্ষন শুরু হয় তাদের। অদম্য মনোবল ও দেশ স্বাধীনের বাসনা বুকে নিয়ে সফল ভাবে প্রশিক্ষন শেষ হয়ে যায়।

এখন হায়ার ট্রেনিং এর অপেক্ষা………..।

এসে যায় ডিসেম্বর। কল্যানী ক্যাম্পে থাকা অবস্থায়ই সুখবর শুনতে পায় কিশোর দলটি। তাদের ফিল্ডে গিয়ে যুদ্ধ করার আগেই শত্রু মুক্ত হয় বাংলা। নতুন সূর্য দেখতে ভারত থেকে সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে প্রবেশ করে তারা। নকশালের ভয়ে ছাড়পত্র ছিড়ে ফেলে সরনার্থী সেজে দেশে আসে কিশোর মুক্তিকামি এ দলটি।

……..মহান মুক্তিযুদ্ধের ৪৪ বছর পরে এসে দেখলাম। দলটির অনেক সদস্যই চলে গেছেন না ফেরার দেশে। তাঁদের কেউই পাননি মুক্তিযোদ্ধা সনদ, মৃতদেহে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা কিংবা কোন প্রকার সংবর্ধনা।

২০০৯ সালে আমার বাবাও চলে গেছেন পৃথিবী ছেড়ে। বাবার জীবদ্দসায় যখনি প্রশ্ন করতাম মুক্তিযুদ্ধ সনদ নিয়ে……………….

মৃদুহেসে বাবা একটাই উত্তর দিতেন—

সার্টিবেট দিয়ে কি অবি?………………………দরকার অলি আবার যাবো……

Comments

comments

সর্বশেষ আপডেট



এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সদস্য মণ্ডলী : –

উপদেষ্টা : ডা রফিকুল ইসলাম বিজলী
আইন উপদেষ্টা : এ্যড জামাল হোসেন মুন্না
সম্পাদক ও প্রকাশক : মাহির শাহরিয়ার শিশির
বার্তা সম্পাদক: সৈকত মাহমুদ
নির্বাহী সম্পাদক : মনেম শাহরিয়ার শাওন

যোগাযোগ : –

সম্পাদকীয় কার্যালয় : সুইট :৩০০৯, লেভেল : ০৩, হাজি
আসরাফ শপিং কমপ্লেক্স, হেমায়েতপুর, সাভার, ঢাকা
09602111463,09602333111,01611354077
fb.com/bartakantho | info@bartakantho.com

Design & Devaloped BY The Creation IT BD Limited | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © বার্তাকণ্ঠে প্রকাশিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র ও অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি।