দুপুর ১:১৬ | বুধবার | ২২শে নভেম্বর, ২০১৭ ইং | ৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

টাঙ্গাইলে যুবলীগের দুই

টাঙ্গাইলে যুবলীগের দুই কর্মী হত্যা করে তাদের মরদেহ গুমের ঘটনার রহস্য উন্মোচিত হয়েছে।

টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের সাংসদ আমানুর রহমান খান রানার ঘনিষ্ঠ সহযোগী যুবলীগ নেতা ও তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী মোর্শেদ তার দল নিয়ে এই হত্যাকান্ড ঘটিয়ে মরদেহ গুম করেন।

ঘটনার প্রায় পাঁচ বছর পর এ মামলায় গ্রেফতার হওয়া দুই আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এই তথ্য জানিয়েছেন।

এই দুই আসামির মধ্যে শাহাদত হোসেন সাধু (৪৫) বৃহস্পতিবার (১৬ মার্চ) ও খন্দকার জাহিদুল ইসলাম (৩৮) শনিবার (১১ মার্চ) টাঙ্গাইল জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

তাদের দুই জনের জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেন সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রুপম কান্তি দাশ।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালের ১৬ জুলাই সকালে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বাঘিল ইউনিয়নের যুবলীগ কর্মী মোহাম্মদ শামীম (২৮) ও মামুন মিয়া (২৫) বাড়ি থেকে টাঙ্গাইল শহরের উদ্দেশ্যে বের হন। এরপর থেকে তারা নিখোঁজ হন।

Screenshot_80

এ ব্যাপারে শামীমের মা আছিয়া খাতুন বাদি হয়ে পরদিন ১৭ জুলাই টাঙ্গাইল সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।

এরপর নিখোঁজ মামুনের বাবা আব্দুল আজিজ বাদি হয়ে ২০১৩ সালের ৯ জুলাই টাঙ্গাইল বিচারিক হাকিম আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালত তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেন।

মামলায় মোর্শেদসহ তার দলের ১৩ জনকে আসামি করা হয়। পরবর্তীতে মামলার তদন্তের দায়িত্ব টাঙ্গাইল জেলা গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি) দেওয়া হয়।

এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অশোক কুমার সিংহ বলেন, এ মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি খন্দকার জাহিদুল ইসলাম ও শাহাদত হোসেনকে গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদকালে তারা এ হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। পরে দুই জনেই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

আদালত সূত্র জানায়, জাহিদুল ও শাহাদত জবানবন্দিতে জানিয়েছেন মামুন ও শামীম হত্যার কিছুদিন আগে সাংসদ আমানুর রহমান খান রানার ভাই জাহিদুর রহমান খান কাকন তার অফিসে মোর্শেদ, স্বপন, জাহিদ, সবুজসহ কয়েকজনকে ডেকে নেন।

পরে, জাহিদুর রহমান খান কাকন তাদের পাঁচ লাখ টাকা ও একটি পিস্তল দিয়ে বেতকা কলেজগেট এলাকার জেলা যুবদলের সভাপতি খন্দকার আহমেদুল হক শাতিলকে হত্যার ব্যবস্থা করতে বলেন। হত্যার কাজে প্রয়োজনীয় আরও টাকা ও অস্ত্র মোর্শেদকে দিতে বলেন।

কাকননের কাছ থেকে মোর্শেদ দায়িত্ব পেয়ে মামুন ও শামীমকে ডেকে আনেন শাতিলকে হত্যার জন্য।

এই হত্যার জন্য দুইটি মোটরসাইকেল, সাত লাখ টাকা ও দুইটি রিভলবার (একটি জাহিদুরের দেওয়া) মামুন ও শামীমকে দেন। কিন্তু তারা হত্যা না করায় পরবর্তীতে তাদের দুই জনকেই মোর্শেদের অফিসে ডেকে এনে হত্যা করে লাশ বাসাইলের নথখোলায় নিয়ে নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়।

Comments

comments

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» জীবন ও সুখ

» মন্চায়িত হয়েগেল উৎস নাট্যদলের নাটক” বর্ণমালার মিছিল”

» পবিত্র মাহে রমজানের গান,,,

» “মন্চায়িত হয়েগেল উৎস নাট্যদলের নাটক “বর্ণমালার মিছিল”

» আলফাডাঙ্গায় নতুন পৌরসভা নির্বাচনে আ.লীগের প্রার্থী ৯ , সতন্ত্র ১, বিএনপি ১

» কাশিয়ানী উপজেলা ছাত্রলীগের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি ঘোষণা

» বার্তাকন্ঠের সাহিত্য সম্পাদক হলেন লিয়াকত হোসেন লিটন

» কাব্য জলসা “নৈবেদ্য” –মাহফুজুল আলম মাহফুজ

» সহোদর -ডাঃ সুকুমার কুন্ডু

» মেয়েটি আর জোৎস্না দেখেনা – লেখিকাঃ ঝর্ণা দে (ঝুনু)

» না দেখা আভাসে — মাহফুজুল আলম মাহফুজ

» পরিবর্তন – এম,এম,লিয়াকত হোসেন ( লিটন )

» শিল্পকলায় বর্ণমালার মিছিলের অষ্টম মঞ্চায়ন

» বেরসিক পাঠক ও সিঙ্গাড়ার গল্প

» উৎস নাট্যদলের উপদেষ্টা হলেন ডাঃ সুকুমার কুন্ডু

সদস্য মণ্ডলী : –

উপদেষ্টা : ডা রফিকুল ইসলাম বিজলী
আইন উপদেষ্টা : এ্যড জামাল হোসেন মুন্না
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুজাহিদুল ইসলাম নাইম
সম্পাদক ও প্রকাশক : মাহির শাহরিয়ার শিশির
বার্তা সম্পাদক: সৈকত মাহমুদ
নির্বাহী সম্পাদক : মনেম শাহরিয়ার শাওন

যোগাযোগ : –

সম্পাদকীয় কার্যালয় : ২৩/৩, তোপখানা রোড,
৪র্থ তালা (পাক্ষিক অনিয়ম এর পাশে ঢাকা - ১০০০
কর্পোরেট অফিস : সুইট :৩০০৯, লেভেল : ০৩, হাজি
আসরাফ শপিং কমপ্লেক্স, হেমায়েতপুর, সাভার, ঢাকা
09602111463, 01911717599, 01611354077
fb.com/bartakantho | info@bartakantho.com

Design & Devaloped BY The Creation IT BD Limited | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © বার্তাকণ্ঠে প্রকাশিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র ও অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি।

দুপুর ১:১৬, ,

টাঙ্গাইলে যুবলীগের দুই

টাঙ্গাইলে যুবলীগের দুই কর্মী হত্যা করে তাদের মরদেহ গুমের ঘটনার রহস্য উন্মোচিত হয়েছে।

টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের সাংসদ আমানুর রহমান খান রানার ঘনিষ্ঠ সহযোগী যুবলীগ নেতা ও তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী মোর্শেদ তার দল নিয়ে এই হত্যাকান্ড ঘটিয়ে মরদেহ গুম করেন।

ঘটনার প্রায় পাঁচ বছর পর এ মামলায় গ্রেফতার হওয়া দুই আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এই তথ্য জানিয়েছেন।

এই দুই আসামির মধ্যে শাহাদত হোসেন সাধু (৪৫) বৃহস্পতিবার (১৬ মার্চ) ও খন্দকার জাহিদুল ইসলাম (৩৮) শনিবার (১১ মার্চ) টাঙ্গাইল জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

তাদের দুই জনের জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেন সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রুপম কান্তি দাশ।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালের ১৬ জুলাই সকালে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বাঘিল ইউনিয়নের যুবলীগ কর্মী মোহাম্মদ শামীম (২৮) ও মামুন মিয়া (২৫) বাড়ি থেকে টাঙ্গাইল শহরের উদ্দেশ্যে বের হন। এরপর থেকে তারা নিখোঁজ হন।

Screenshot_80

এ ব্যাপারে শামীমের মা আছিয়া খাতুন বাদি হয়ে পরদিন ১৭ জুলাই টাঙ্গাইল সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।

এরপর নিখোঁজ মামুনের বাবা আব্দুল আজিজ বাদি হয়ে ২০১৩ সালের ৯ জুলাই টাঙ্গাইল বিচারিক হাকিম আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালত তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেন।

মামলায় মোর্শেদসহ তার দলের ১৩ জনকে আসামি করা হয়। পরবর্তীতে মামলার তদন্তের দায়িত্ব টাঙ্গাইল জেলা গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি) দেওয়া হয়।

এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অশোক কুমার সিংহ বলেন, এ মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি খন্দকার জাহিদুল ইসলাম ও শাহাদত হোসেনকে গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদকালে তারা এ হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। পরে দুই জনেই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

আদালত সূত্র জানায়, জাহিদুল ও শাহাদত জবানবন্দিতে জানিয়েছেন মামুন ও শামীম হত্যার কিছুদিন আগে সাংসদ আমানুর রহমান খান রানার ভাই জাহিদুর রহমান খান কাকন তার অফিসে মোর্শেদ, স্বপন, জাহিদ, সবুজসহ কয়েকজনকে ডেকে নেন।

পরে, জাহিদুর রহমান খান কাকন তাদের পাঁচ লাখ টাকা ও একটি পিস্তল দিয়ে বেতকা কলেজগেট এলাকার জেলা যুবদলের সভাপতি খন্দকার আহমেদুল হক শাতিলকে হত্যার ব্যবস্থা করতে বলেন। হত্যার কাজে প্রয়োজনীয় আরও টাকা ও অস্ত্র মোর্শেদকে দিতে বলেন।

কাকননের কাছ থেকে মোর্শেদ দায়িত্ব পেয়ে মামুন ও শামীমকে ডেকে আনেন শাতিলকে হত্যার জন্য।

এই হত্যার জন্য দুইটি মোটরসাইকেল, সাত লাখ টাকা ও দুইটি রিভলবার (একটি জাহিদুরের দেওয়া) মামুন ও শামীমকে দেন। কিন্তু তারা হত্যা না করায় পরবর্তীতে তাদের দুই জনকেই মোর্শেদের অফিসে ডেকে এনে হত্যা করে লাশ বাসাইলের নথখোলায় নিয়ে নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়।

Comments

comments

সর্বশেষ আপডেট



এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সদস্য মণ্ডলী : –

উপদেষ্টা : ডা রফিকুল ইসলাম বিজলী
আইন উপদেষ্টা : এ্যড জামাল হোসেন মুন্না
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুজাহিদুল ইসলাম নাইম
সম্পাদক ও প্রকাশক : মাহির শাহরিয়ার শিশির
বার্তা সম্পাদক: সৈকত মাহমুদ
নির্বাহী সম্পাদক : মনেম শাহরিয়ার শাওন

যোগাযোগ : –

সম্পাদকীয় কার্যালয় : ২৩/৩, তোপখানা রোড,
৪র্থ তালা (পাক্ষিক অনিয়ম এর পাশে ঢাকা - ১০০০
কর্পোরেট অফিস : সুইট :৩০০৯, লেভেল : ০৩, হাজি
আসরাফ শপিং কমপ্লেক্স, হেমায়েতপুর, সাভার, ঢাকা
09602111463, 01911717599, 01611354077
fb.com/bartakantho | info@bartakantho.com

Design & Devaloped BY The Creation IT BD Limited | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © বার্তাকণ্ঠে প্রকাশিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র ও অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি।