রাত ৯:৪৪ | মঙ্গলবার | ১৭ই জুলাই, ২০১৮ ইং | ২রা শ্রাবণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

সমুদ্রে ভেসে গিয়েছিল খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯ প্রাণ

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে আজ পালিত হচ্ছে শোক দিবস। এক যুগ আগে ২০০৪ সালের আজকের দিনে সুন্দরবনের কটকা সৈকতে ভেসে গিয়েছিল খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের নয় শিক্ষার্থী ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) দুই ছাত্রসহ মোট ১১টি তরুণ প্রাণ।

নবীন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাজানো গোছানো পরিবারের ওপর প্রথম বড়সড় এক আঘাতের দিন ছিল সেটি। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিহত ছাত্রছাত্রীদের সবাই ছিলেন স্থাপত্য ডিসিপ্লিনের। সমুদ্রের মতো মন নিয়ে আকাশছোঁয়ার অঙ্গীকারে সমুদ্রস্নানে গিয়েছিলেন তাঁরা। নেমেছিলেন কটকার সুন্দরসৈকতে। কিন্তু সাগরের প্রকাণ্ড ঢেউয়ের তোড়ে সম্ভাবনাময় ওই শিক্ষার্থীদের জীবনঘণ্টার কাঁটা থমকে যায়। কটকার নির্জন সৈকতে সলিলসমাধি হয় তাঁদের।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য ডিসিপ্লিনের নয় শিক্ষার্থী এ দুর্ঘটনায় মারা যান তাঁরা হলেন আরনাজ রিফাত রূপা, মো. মাহমুদুর রহমান, মাকসুমুল আজিজ মোস্তাজী, আবদুল্লাহেল বাকী, কাজী মুয়ীদ বিন ওয়ালী, মো. কাওসার আহমেদ খান, মুনাদিল রায়হান বিন মাহবুব, মো. আশরাফুজ্জামান, মো. তৌহিদুল এনাম। আর বুয়েটের দুজন ছাত্রের নাম সামিউল ও শাকিল। ওই দিনের পর থেকেই প্রতিবছর এ দিনটিকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় শোক দিবস হিসেবে পালন করে আসছে।

সেদিন যাঁরা মারা গিয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে তোহা ভালো গাইতেন, বাজাতেন গিটারও। ভরাটকণ্ঠের মিশুক-বিনয়ী এই ছেলেটির ছিল যে কারো মন জয়ের ক্ষমতাই। ঢাকার বদরুন্নেসা কলেজ থেকে পাস করে খুলনায় পড়তে আসা রূপার শখ ছিল রান্নার। অপুর ছিল দারুণ লেখার হাতি। স্থাপত্য বিভাগের এই নয় বন্ধুই নিজেদের মেধায় কীর্তিতে ছিলেন ভাস্বর। আর তাই এই শিক্ষার্থীদের অকালপ্রয়াণ বিশ্ববিদ্যালয়ের অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবেই দেখা হয়।

গত কয়েকদিন ধরেই খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে শোকের আবহ। এই নয় শিক্ষার্থী স্মরণে ক্যাম্পাসে কটকা নামে যে স্মৃতিস্তম্ভ সেখানকার আশপাশের প্রায় আধা কিলোমিটার পর্যন্ত জায়গার গাছগুলোও কালো কাপড়ে মোড়ানো।

রাস্তায় আঁকা সাদাকালো আলপনা, আর আলপনায় লেখা দুঃখগাঁথা। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় আজও গভীর ভালোবাসায় ধরে রেখেছে অকালপ্রয়াত ওই নয় শিক্ষার্থীর স্মৃতি।

আজও দিনটির স্মরণে শোকে স্তব্ধ গোটা বিশ্ববিদ্যালয়ই যেন বলে ওঠে, তোমাদের চলে যাওয়া মানে প্রস্থান নয়। তোমরা আছ হৃদয়ে।

Comments

comments

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» রুর‌্যাল জার্নালিষ্ট ফাউন্ডেশন (আরজেএফ)’র আলফাডাঙ্গা শাখার দ্বিবার্ষিক কমিটি গঠন

» সমাহার সফট চালু করলো করপোরেট বাল্ক এসএমএস

» আরজেএফ কেন্দ্রীয় কমিটিতে আলফাডাঙ্গার কামরুল ইসলাম নির্বাচিত

» “মধুমতি পাড়ের লেখিয়ে গ্রুপ”

» Test

» জেনে নিন টনসিলের ব্যথা দূর করার সহজ সমাধান !!

» ডায়াবেটিস রোগীদের পায়ে ব্যথা কমানোর ঘরোয়া উপায় !!

» ৪ অবস্থায় আদা ভুলেও খাবেন না !!

» বিয়ের পর মোটা হওয়া কিভাবে আটকাবেন?

» সুখী দাম্পত্যজীবনের মন্ত্র

» লিভার নষ্ট হওয়ার এই ১০টি কারণ কি আপনার মধ্যে আছে? আজই সচেতন হউন !!

» যেভাবে রসুন খেলে ৩ গুণ বেড়ে যায় পুরুষের শারীরিক সক্ষমতা !!

» ভাঙা সম্পর্কের রেশ কাটাতে

» হঠাৎ অস্থিরতা ও খারাপ লাগা বড় কোনো রোগের লক্ষণ?

» নিজেকে সব সময় ক্লান্ত মনে হয়?

Archive Calendar

মার্চ ২০১৭
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« ফেব্রুয়ারি   এপ্রিল »
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১

সদস্য মণ্ডলী : –

উপদেষ্টা : ডা রফিকুল ইসলাম বিজলী
আইন উপদেষ্টা : এ্যড জামাল হোসেন মুন্না
সম্পাদক ও প্রকাশক : মাহির শাহরিয়ার শিশির
বার্তা সম্পাদক: সৈকত মাহমুদ
নির্বাহী সম্পাদক : মনেম শাহরিয়ার শাওন

যোগাযোগ : –

সম্পাদকীয় কার্যালয় : সুইট :৩০০৯, লেভেল : ০৩, হাজি
আসরাফ শপিং কমপ্লেক্স, হেমায়েতপুর, সাভার, ঢাকা
09602111463,09602333111,01611354077
fb.com/bartakantho | info@bartakantho.com

Design & Devaloped BY The Creation IT BD Limited | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © বার্তাকণ্ঠে প্রকাশিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র ও অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি।

রাত ৯:৪৪, ,

সমুদ্রে ভেসে গিয়েছিল খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯ প্রাণ

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে আজ পালিত হচ্ছে শোক দিবস। এক যুগ আগে ২০০৪ সালের আজকের দিনে সুন্দরবনের কটকা সৈকতে ভেসে গিয়েছিল খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের নয় শিক্ষার্থী ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) দুই ছাত্রসহ মোট ১১টি তরুণ প্রাণ।

নবীন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাজানো গোছানো পরিবারের ওপর প্রথম বড়সড় এক আঘাতের দিন ছিল সেটি। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিহত ছাত্রছাত্রীদের সবাই ছিলেন স্থাপত্য ডিসিপ্লিনের। সমুদ্রের মতো মন নিয়ে আকাশছোঁয়ার অঙ্গীকারে সমুদ্রস্নানে গিয়েছিলেন তাঁরা। নেমেছিলেন কটকার সুন্দরসৈকতে। কিন্তু সাগরের প্রকাণ্ড ঢেউয়ের তোড়ে সম্ভাবনাময় ওই শিক্ষার্থীদের জীবনঘণ্টার কাঁটা থমকে যায়। কটকার নির্জন সৈকতে সলিলসমাধি হয় তাঁদের।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য ডিসিপ্লিনের নয় শিক্ষার্থী এ দুর্ঘটনায় মারা যান তাঁরা হলেন আরনাজ রিফাত রূপা, মো. মাহমুদুর রহমান, মাকসুমুল আজিজ মোস্তাজী, আবদুল্লাহেল বাকী, কাজী মুয়ীদ বিন ওয়ালী, মো. কাওসার আহমেদ খান, মুনাদিল রায়হান বিন মাহবুব, মো. আশরাফুজ্জামান, মো. তৌহিদুল এনাম। আর বুয়েটের দুজন ছাত্রের নাম সামিউল ও শাকিল। ওই দিনের পর থেকেই প্রতিবছর এ দিনটিকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় শোক দিবস হিসেবে পালন করে আসছে।

সেদিন যাঁরা মারা গিয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে তোহা ভালো গাইতেন, বাজাতেন গিটারও। ভরাটকণ্ঠের মিশুক-বিনয়ী এই ছেলেটির ছিল যে কারো মন জয়ের ক্ষমতাই। ঢাকার বদরুন্নেসা কলেজ থেকে পাস করে খুলনায় পড়তে আসা রূপার শখ ছিল রান্নার। অপুর ছিল দারুণ লেখার হাতি। স্থাপত্য বিভাগের এই নয় বন্ধুই নিজেদের মেধায় কীর্তিতে ছিলেন ভাস্বর। আর তাই এই শিক্ষার্থীদের অকালপ্রয়াণ বিশ্ববিদ্যালয়ের অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবেই দেখা হয়।

গত কয়েকদিন ধরেই খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে শোকের আবহ। এই নয় শিক্ষার্থী স্মরণে ক্যাম্পাসে কটকা নামে যে স্মৃতিস্তম্ভ সেখানকার আশপাশের প্রায় আধা কিলোমিটার পর্যন্ত জায়গার গাছগুলোও কালো কাপড়ে মোড়ানো।

রাস্তায় আঁকা সাদাকালো আলপনা, আর আলপনায় লেখা দুঃখগাঁথা। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় আজও গভীর ভালোবাসায় ধরে রেখেছে অকালপ্রয়াত ওই নয় শিক্ষার্থীর স্মৃতি।

আজও দিনটির স্মরণে শোকে স্তব্ধ গোটা বিশ্ববিদ্যালয়ই যেন বলে ওঠে, তোমাদের চলে যাওয়া মানে প্রস্থান নয়। তোমরা আছ হৃদয়ে।

Comments

comments

সর্বশেষ আপডেট



এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সদস্য মণ্ডলী : –

উপদেষ্টা : ডা রফিকুল ইসলাম বিজলী
আইন উপদেষ্টা : এ্যড জামাল হোসেন মুন্না
সম্পাদক ও প্রকাশক : মাহির শাহরিয়ার শিশির
বার্তা সম্পাদক: সৈকত মাহমুদ
নির্বাহী সম্পাদক : মনেম শাহরিয়ার শাওন

যোগাযোগ : –

সম্পাদকীয় কার্যালয় : সুইট :৩০০৯, লেভেল : ০৩, হাজি
আসরাফ শপিং কমপ্লেক্স, হেমায়েতপুর, সাভার, ঢাকা
09602111463,09602333111,01611354077
fb.com/bartakantho | info@bartakantho.com

Design & Devaloped BY The Creation IT BD Limited | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © বার্তাকণ্ঠে প্রকাশিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র ও অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি।