সকাল ৯:৪৫ | বুধবার | ১১ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং | ২৭শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে সহিংসতা “গণহত্যা” নয়: কফি আনান

মিয়ামনারে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে সহিংসতাকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে নিচ্ছেন না কফি আনান।

জাতিসংঘের প্রাক্তন এ মহাসচিব আরাকান রাজ্য ঘুরে এসে বিবিসিকে বলেছেন, ‘আমি মনে করি, সেখানে উত্তেজনা আছে, যুদ্ধ চলছে। আমি এটাকে সেভাবে দেখতে চাই না, যেমনটি কেউ কেউ দেখছেন।’

রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সহিংসতাকে ‘গণহত্যা’ বলে উল্লেখ করেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক। রোববার এক বক্তব্যে রোহিঙ্গা নিধন বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি। সে সময় রোহিঙ্গাদের বাস্তব অবস্থা পরিদর্শনে আরাকান রাজ্য পরিদর্শনে ছিলেন কফি আনান।

কফি আনান ও নাজিব রাজাকের বক্তব্যের মধ্যে ব্যাপক পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। তবে মালয়েশিয়া রোহিঙ্গাদের রক্ষায় উচ্চকণ্ঠ ভূমিকা নিয়েছে।

অক্টোবর মাসে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলে নিরাপত্তারক্ষীদের চৌকিতে হামলা চালিয়ে নয়জনকে হত্যা করে অজ্ঞাত অস্ত্রধারীরা। এরপর সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান শুরু করে দেশটির সেনা-পুলিশ।

রোহিঙ্গাদের অভিযোগ, অভিযানের নামে নির্বিচারে গণহত্যা চালাচ্ছে তারা। অধিকার হরণ, খুন, হত্যা, নির্যাতন, ধর্ষণ, ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে তাদের।

মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের অভিযোগ কঠোর ভাষায় প্রত্যাখ্যান করেছে। পরিস্থিতি উত্তাল হওয়ার জন্য গণমাধ্যমকে দায়ী করেছেন রাষ্ট্রীয় পরামর্শক শান্তিতে নোবেলজয়ী অং সান সু চি।

প্রধানমন্ত্রীর পদমর্যাদার মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় পরামর্শক সু চি আগস্ট মাসে কফি আনানকে সফরের আমন্ত্রণ জানান। আরাকান রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলিম ও বৌদ্ধ রাখাইনরা বসবাস করে।

কফি আনান বিবিসিকে বলেছেন, সেখানে উভয় সম্প্রদায়ই আতঙ্কিত। সেখানে ভয় ও অবিশ্বাস আছে। আতঙ্ক আরো বাড়ছে কিন্তু তা প্রশমনের জন্য উপায় খুঁজতে পারি আমরা এবং সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে উৎসাহিত করতে পারি।

মানবাধিকার গ্রুপগুলো দাবি করছে, দুই মাসে প্রায় ২১ হাজার ৯০০ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে। সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করেছে বাংলাদেশ। তবে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের সমালোচনা করেছে।

দুই দেশের সীমানা নির্ধারণী নাফ নদী পার হয়ে রোহিঙ্গারা নৌকায় করে দলে দলে বাংলাদেশে ঢোকার চেষ্টা করছে। এরই মধ্যে কয়েকবার নৌকাডুবিতে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। রোববার মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষীদের (বিজিপি) গুলিতে তিনটি নৌকা ডুবে কমপক্ষে ১৫ জন মারা যায়। নিখোঁজ রয়েছেন অনেকে। এ ঘটনায় দুই শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে মৃত অবস্থায় এক রোহিঙ্গা শিশু নাফ নদীর মিয়ানমার তীরে কাদায় উপুড় হয়ে ছিল। তার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। এরপরও কফি আনান রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সহিংসতাকে গণহত্যা বলতে রাজি নন।

Comments

comments

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» সাভারে ঔষধ প্রশাসনের উদ্যোগে জনসেচতনামূলক সভা অনুষ্ঠিত

» প্রতিবাদ বিবৃতি- মেসার্স এস এ ল্যাবরেটরীজ (ইউনানী) (পুর্বের নাম ম্যাগ ল্যাবরেটরীজ (ইউনানী)

» গোপীনাথপুর ফুটবল একাদশকে হারালো খুলনা মোল্যা খোকন স্মৃতি সংঘ

» কাশিয়ানীতে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সদস্য শাহিন ডাকাত গ্রেফতার

» মঈনুল হোসেন এর বিচারের দাবীতে স্বেচ্ছাসেবক লীগের বিক্ষোভ সমাবেশ

» ৫ নং রাজনগর ইউনিয়ন ১-০ গোলে হারালো পেড়িখালি ইউনিয়নকে

» আলফাডাঙ্গায় পূর্বশত্রুতার জের ধরে বৃদ্ধ মাতা সহ ২ সহোদর রক্তাক্ত জখম

» একটা মানবিক সাহায্যের প্রয়োজন

» স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা ” তারিক সাঈদ ” এর জন্মদিন

» গাছ লাগান, পরিবেশ বাঁচান’ : আশিক খান

» পদ্মায় লঞ্চঘাট ধস: আল আমিনকে পেতে পরিবারের আকুতি

» Teams

» TC team

» আলফাডাঙ্গায় জুয়া খেলার প্রতিবাদ করায় ইউপি সদস্যকে হত্যার হুমকি

» রুর‌্যাল জার্নালিষ্ট ফাউন্ডেশন (আরজেএফ)’র আলফাডাঙ্গা শাখার দ্বিবার্ষিক কমিটি গঠন

Archive Calendar

ডিসেম্বর ২০১৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« নভেম্বর   জানুয়ারি »
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  

সদস্য মণ্ডলী : –

উপদেষ্টা : ডা রফিকুল ইসলাম বিজলী
আইন উপদেষ্টা : এ্যড জামাল হোসেন মুন্না
সম্পাদক ও প্রকাশক : মাহির শাহরিয়ার শিশির
বার্তা সম্পাদক: সৈকত মাহমুদ
নির্বাহী সম্পাদক : মনেম শাহরিয়ার শাওন

যোগাযোগ : –

সম্পাদকীয় কার্যালয় : সুইট :৩০০৯, লেভেল : ০৩, হাজি
আসরাফ শপিং কমপ্লেক্স, হেমায়েতপুর, সাভার, ঢাকা
09602111463,09602333111,01611354077
fb.com/bartakantho | info@bartakantho.com

Design & Devaloped BY The Creation IT BD Limited | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © বার্তাকণ্ঠে প্রকাশিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র ও অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি।

সকাল ৯:৪৫, ,

রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে সহিংসতা “গণহত্যা” নয়: কফি আনান

মিয়ামনারে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে সহিংসতাকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে নিচ্ছেন না কফি আনান।

জাতিসংঘের প্রাক্তন এ মহাসচিব আরাকান রাজ্য ঘুরে এসে বিবিসিকে বলেছেন, ‘আমি মনে করি, সেখানে উত্তেজনা আছে, যুদ্ধ চলছে। আমি এটাকে সেভাবে দেখতে চাই না, যেমনটি কেউ কেউ দেখছেন।’

রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সহিংসতাকে ‘গণহত্যা’ বলে উল্লেখ করেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক। রোববার এক বক্তব্যে রোহিঙ্গা নিধন বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি। সে সময় রোহিঙ্গাদের বাস্তব অবস্থা পরিদর্শনে আরাকান রাজ্য পরিদর্শনে ছিলেন কফি আনান।

কফি আনান ও নাজিব রাজাকের বক্তব্যের মধ্যে ব্যাপক পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। তবে মালয়েশিয়া রোহিঙ্গাদের রক্ষায় উচ্চকণ্ঠ ভূমিকা নিয়েছে।

অক্টোবর মাসে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলে নিরাপত্তারক্ষীদের চৌকিতে হামলা চালিয়ে নয়জনকে হত্যা করে অজ্ঞাত অস্ত্রধারীরা। এরপর সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান শুরু করে দেশটির সেনা-পুলিশ।

রোহিঙ্গাদের অভিযোগ, অভিযানের নামে নির্বিচারে গণহত্যা চালাচ্ছে তারা। অধিকার হরণ, খুন, হত্যা, নির্যাতন, ধর্ষণ, ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে তাদের।

মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের অভিযোগ কঠোর ভাষায় প্রত্যাখ্যান করেছে। পরিস্থিতি উত্তাল হওয়ার জন্য গণমাধ্যমকে দায়ী করেছেন রাষ্ট্রীয় পরামর্শক শান্তিতে নোবেলজয়ী অং সান সু চি।

প্রধানমন্ত্রীর পদমর্যাদার মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় পরামর্শক সু চি আগস্ট মাসে কফি আনানকে সফরের আমন্ত্রণ জানান। আরাকান রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলিম ও বৌদ্ধ রাখাইনরা বসবাস করে।

কফি আনান বিবিসিকে বলেছেন, সেখানে উভয় সম্প্রদায়ই আতঙ্কিত। সেখানে ভয় ও অবিশ্বাস আছে। আতঙ্ক আরো বাড়ছে কিন্তু তা প্রশমনের জন্য উপায় খুঁজতে পারি আমরা এবং সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে উৎসাহিত করতে পারি।

মানবাধিকার গ্রুপগুলো দাবি করছে, দুই মাসে প্রায় ২১ হাজার ৯০০ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে। সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করেছে বাংলাদেশ। তবে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের সমালোচনা করেছে।

দুই দেশের সীমানা নির্ধারণী নাফ নদী পার হয়ে রোহিঙ্গারা নৌকায় করে দলে দলে বাংলাদেশে ঢোকার চেষ্টা করছে। এরই মধ্যে কয়েকবার নৌকাডুবিতে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। রোববার মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষীদের (বিজিপি) গুলিতে তিনটি নৌকা ডুবে কমপক্ষে ১৫ জন মারা যায়। নিখোঁজ রয়েছেন অনেকে। এ ঘটনায় দুই শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে মৃত অবস্থায় এক রোহিঙ্গা শিশু নাফ নদীর মিয়ানমার তীরে কাদায় উপুড় হয়ে ছিল। তার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। এরপরও কফি আনান রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সহিংসতাকে গণহত্যা বলতে রাজি নন।

Comments

comments

সর্বশেষ আপডেট



এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সদস্য মণ্ডলী : –

উপদেষ্টা : ডা রফিকুল ইসলাম বিজলী
আইন উপদেষ্টা : এ্যড জামাল হোসেন মুন্না
সম্পাদক ও প্রকাশক : মাহির শাহরিয়ার শিশির
বার্তা সম্পাদক: সৈকত মাহমুদ
নির্বাহী সম্পাদক : মনেম শাহরিয়ার শাওন

যোগাযোগ : –

সম্পাদকীয় কার্যালয় : সুইট :৩০০৯, লেভেল : ০৩, হাজি
আসরাফ শপিং কমপ্লেক্স, হেমায়েতপুর, সাভার, ঢাকা
09602111463,09602333111,01611354077
fb.com/bartakantho | info@bartakantho.com

Design & Devaloped BY The Creation IT BD Limited | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © বার্তাকণ্ঠে প্রকাশিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র ও অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি।